Free Delivery Within Dhaka City

Kuakata

প্যাকেজ – ১ (ঢাকা টু কুয়াকাটা লঞ্চ/এসি বাস - ৩ রাত ২ দিন )

সর্ব নিম্ন সময়ের ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য সব গুলো পর্যটন স্পট পরিদর্শনের জন্য এটি একটি অন্যতম ভ্রমণ প্যাকেজ

 

১ম দিন রাতঃ

  • রাত ৮:০০ - সকাল ৬:৩০: (কুয়াকাটার উদ্দেশে যাত্রা শুরু - এসি বাস)   

 

২য় দিনঃ

  • সকাল ০৭:৩০ – সকাল ০৮:৩০: হোটেল চেক ইন এবং সকালের নাস্তা।
  • সকাল ০৮:৩০ – দুপুর ১২:০০: সমুদ্র সৈকতে সময় কাটান।
  • দুপুর ১২:৩০ – দুপুর ০১:৩০: লাঞ্চ।
  • দুপুর ০১:৩০ – সন্ধা ০৬:০০: নৌকা ভ্রমন (সন্ধায় নৌকায় বসে সূর্যাস্ত দেখা সহ লেবুর চর, ফাতরার চর ও সুন্দরবনের পূর্বাংশ দেখা)।
  • সন্ধা ০৬:০০ – রাত ০৯:৩০: রাখাইন মার্কেট, বৌদ্ব মন্দীর এলাকায় ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটা এবং সমুদ্র সৈকতের পশে ফায়ার ক্যাম্প, ফিশ ফ্রাই  ও লাইভস্থানীয় গানের সহ সমুদ্র সৈকতেরপ্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ, মাস্তি।
  • রাত ৯:৩০: ডিনার

 

৩য় দিনঃ

  • ভোর ৪:১৫ - সকাল ৮:৩০: সূর্য উদয়দেখা, সকালের নাস্তা ও  কাউয়ার চর,গঙ্গামতী চর, লাল কাঁকড়ার চর, ঝাউ বন ঘুরে মিশ্রিপাড়াবৌদ্ধমন্দির দর্শন।
  • সকাল ৮:৩০ - দুপুর ১১:৩০: সমুদ্র সৈকতে সময় কাটান।
  • দুপুর ১১:৩০ - দুপুর ০২:০০: পায়রা সমুদ্র বন্দর পিরদর্শন।
  • দুপুর ০২:০০ - দুপুর ০৩:০০: লাঞ্চ।
  • দুপুর ০৩:০০ - বিকাল ০৫:০০: তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রপিরদর্শন।
  • বিকাল ০৫:০০ - সন্ধা ০৬:০০: তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রহতে কলাপাড়া বাস স্ট্যান্ড এর উদ্দেশে রওনা।
  • সন্ধা ০৬:০০:  ঢাকার উর্দ্দেশে যাত্রা - এসি বাস।

 

গ্রুপের আকার = ৫ থেকে ১৪ জন (হাইস গাড়ি প্রযোজ্য ১২ - ১৪ জন)

প্যাকেজ জনপ্রতি = ৮,৫০০ টাকা (১১,০০০ টাকা)।

প্যাকেজ জনপ্রতি (লঞ্চ) = ১০,০০০ টাকা (১২,৫০০ টাকা)।

 

খাবারের বিবরণ:

সকালের নাস্তাঃ কলা, ডিম, রুটি, ভাজি

লাঞ্চ / ডিনার:

  • ভাত
  • ভাজি/ ভর্তা
  • মাছ/মাংসঃ মুরগি / গরু / হাঁস / পোয় / চিংড়ি / সামুদ্রিক বাইলা / বোয়াল / কোড়াল (মাছ/মাংস এর প্রাপ্পতা খাবার হোটেল ও জায়গার উপর নির্ভর করবে)
  • ডাল

ফায়ার ক্যাম্প এ ফিশ ফ্রাই: রূপচাঁদা /কোড়াল /টোনা / লাক্কা মাছ (প্রাপ্পতা বাজার এর উপর নির্ভর করবে)

→ ঈদ, ক্রিসমাস ও নিউ ইয়ার সময়কালীন এই প্যাকেজ প্রযোজ্য নয়
→ শিশু (৩-৫ বছর): ৮০% টাকা (মা/বাবার সাথে বেড শেয়ার করে থাকবে)
→ শিশু (১-২ বছর): ফ্রি

বুকিং করার নিয়মঃ
- বুকিং কনফার্ম করতে জনপ্রতি ন্যুনতম ৫০% টাকা জমা দিতে হবে।

 

কুয়াকাটা

দক্ষিন এশিয়ার একমাত্র সমুদ্র সৈকত যেখান থেকে সূর্য উদয় ও সূর্যাস্ত দুটাই দেখা যায়, যার অপরুপ সৌন্দর্যের জন্য নাম করন করা হয়েছে সাগর কন্যা (Virgin Beach)। সেই ঐতিহাসিক সাগর কন্যা কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য www.PayraNet.Com নিয়ে এসেছে সুন্দরবন ঘেঁষা (টেরাগিরি) ফোতরার চর,গঙ্গামতি ঝাউবন, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির,লাল কাঁকড়ার চর, অতিথি পাখির কলতানের সমন্বয়ে মুখরিত সমুদ্র সৈকতে উল্লাসের এক অনন্য ভ্রমণ। যা আপনাকে দিবে এক ব্যাতিক্রমি ট্যুরিজিয়ামের ধারনা ও প্রকৃতি কিছু যায়গা দেখার সুবর্ন সুযোগ।। ভ্রমন পিপাসুদের এক অনন্য আস্থ্যা ও বিনোদনের নাম www.PayraNet.Com.
 

কেন www.PayraNet.Com?-

  1. ১. সহজেই কম খরচে সম্পুর্ন ভ্রমণের ব্যাবস্হাপনা
  2. ২. ভ্রমণ ও বিনোদনের সর্বোচ্চ ব্যাবস্হাপনা
  3. ৩. সু-শৃঙ্খলা ও সূ শৃংখলা রক্ষার পরিকল্পনা ও পরিচালনা
  4. ৪. নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের সর্চ্ছো ব্যাবস্তাপনা
  5. ৫. স্বাস্হ সম্মত ও রুচিশীল খাবারের সর্বচ্ছো পরিকল্পনা, পরিচালনা ও বাস্তবায়ন
  6. ৬. পয়সা উসুল, বিনোদন ও বিন্দাস মাস্তি।

 

ঝিনুক বীচ - কুয়াকাটা

 

প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত স্থান সমূহ-

০১। কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান – ইকোপার্ক
০২। কুয়াকাটার কুয়া
০৩। ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী নৌকা
০৪। কাউয়ার চর
০৫। গঙ্গামতীর চর
০৬। ঝাউ বন
০৭। লাল কাঁকড়ার চর
০৮। ইলিশ পার্ক
০৯। কুয়াকাটা বৌদ্ধ মন্দির
১০। মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধ বিহার
১১। নয়পাড়া বৌদ্ধ বিহার
১২। রাখাইন পল্লী
১৩। বার্মিজ মার্কেট
১৪। শুটকি পল্লী
১৫। ঝিনুক বীচ
১৬। লেবুর চর
১৭। তিন নদীর মোহনা
১৮। সুন্দরবনের পূর্বাংশ - ফাতরার বন

 

দর্শনীয় স্থান সমূহের বিবরণ -

০১। কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান – ইকোপার্ক (Kuakata National Park)

কুয়াকাটা জিরোপার্ক থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্ব দিকে ৭০০ একর জায়গা জুড়ে কুয়াকাটা ইকোপার্ক অবস্থিত। এখানে পরিকল্পিত ভাবে বিভিন্ন ধরনের বনজ ফলজ গাছ লাগানো হয়েছে।

০২। কুয়াকাটার কুয়া (Kuakatar Kua)

কুয়াকাটারা 'কুয়া' - কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের কাছে রাখাইন পল্লী কেরানীপাড়ার শুরুতেই একটা বৌদ্ধ বিহারের কাছে রয়েছে একটি প্রাচীন কুপ। সীমা বৌদ্ধ বিহার - প্রাচীন কুয়াটির সামনেই রয়েছে প্রাচীন সীমা বৌদ্ধ বিহার, যাতে রয়েছে প্রায় সাঁইত্রিশ মন ওজনের অষ্ট ধাতুর তৈরি ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের মূর্তি।

ছবিঃ কুয়াকাটার কুয়া (Kuakatar Kua)

জনশ্রুতি আছে ১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা রাখাইনদের মাতৃভূমি আরাকান দখল করলে বহু রাখাইন জায়গাটি ছেড়ে নৌকাযোগে আশ্রয়ের খোঁজে বেড়িয়ে পড়েন। চলতি পথে তারা বঙ্গোপসাগরের তীরে রাঙ্গাবালি দ্বীপের খোঁজ পেয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করেন। সাগরের লোনা জল ব্যবহারের অনুপযোগী বলে মিষ্টি পানির জন্য তারা এখানে একটি কূপ খনন করেন। এরপর থেকে জায়গাটি ‘কুয়াকাটা’ নামে পরিচিতি পায়।

০৩। ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী নৌকা (Traditional Centennial Boat)

শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার ও রাখাইন মার্কেটের সংলগ্ন ভেড়িবাধের ঢালে কুয়াকাটার নৌকা জাদুঘর অবস্থিত। এখানে একটি পাল তোলা জাহাজের ধ্বংসাবশেষ রাখা আছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর নৌকাটিকে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। নৌকাটি ৭২ ফুট দৈর্ঘ্য, ২২ ফুট প্রস্থ, ১১ ফুট উচ্চতা এবং ৯০ টন ওজনের। প্রাচীনকালে সমুদ্রপথে বিভিন্ন দেশের সাথে ব্যবসা বানিজ্য করার জন্য এসব পাল তোলা জাহাজ ব্যবহার করা হতো।

০৪। কাউয়ার চর (Kawar Char)

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটার কাউয়ার চর। একদিকে সাগরের গর্জন, অন্য দিকে বিশাল কেওড়া বন আর সৈকতে লাল কাঁকড়ার বিচরণ ভূমি- এ এক অনন্য স্থান।

সাগরের নীল জল সাদা ঢেউ আর সৈকতের রুপালি বালি যে কোনো পর্যটকের মন কেড়ে নেবে। সৈকতের কোল ঘেঁষে বনের ভেতর আছে কিছু জেলে পল্লী। এখনে দেখা যায় তাদের জীবনযাত্রা। কেউ জাল বুনছে, কেউবা সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর সাগর পারে জেলে বাচ্চাদের ছুটো ছুটি।

ছবিঃ কাউয়ার চর (Kawar Char)

বনের ভেতর সংগ্রাম করে এখন টিকে আছে বাগডাস, বানর, বুনো শুকর, সজারু, কাঠবিড়ালি, সাপ। শীতে দেখা যায় অনেক পাখি। বনটি ম্যানগ্রোভ প্রজাতির। কুয়াকাটার অনেকে এই বনের বাগডাসকে চিতা বাঘ বলে থাকে। আগে অনেক বাগডাস, শুকর, সজারু দেখা গেলেও এখন সংখ্যায় অনেক কম। শুকর ও সজারু কমার অন্যতম কারণ এখানকার রাখাইনরা। তাদের মজার খাদ্য এই শুকর ও সজারুর মাংস।

০৫। গঙ্গামতীর চর (Gangamatir Char)

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে গঙ্গামতির অবস্থান। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে পূর্ব দিকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরত্বে এই চরটি রয়েছে।কল্পনার সৌন্দর্যকেও হার মানায় সবুজে ঘেরা শান্ত নির্জন স্নিগ্ধ সৈকতের গঙ্গামতির চর। প্রকৃতি যেন তার সকল সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে এই চরের বুকে। কুয়াকাটা বেড়াতে গিয়ে গঙ্গামতি না গেলে আপনার কুয়াকাটা ভ্রমণই থেকে যাবে অসম্পূর্ণ।

গঙ্গামতির সর্বত্রই যেন সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি। এখানে রয়েছে কয়েকটি স্বচ্ছ নীল জলের লেক আর প্রকৃতির শোভায় মন্ডিত বিশাল বেলাভূমি। সমস্ত বেলাভূমি জুড়ে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি দেখে আপনার মন হয়ে উঠবে আরো প্রফুল্ল। এই কাঁকড়াগুলো ঠিক যেন নিপুণ হাতে পুরো সৈকত জুড়ে আলপনা এঁকে রেখেছে। যা এই চরের সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। খুব সকালে গঙ্গামতি সৈকতে যদি যান তবে এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় দেখার অভিজ্ঞতা আপনাকে দেবে এক স্বর্গীয় আবেশ। লাল টিপের মত সূর্য সমুদ্রের বুক থেকে এক অপূর্ব রূপ নিয়ে উদিত হয়। আর এই সোনালি আভা ছড়িয়ে পড়ে গঙ্গামতির বেলাভূমিতে। সাগরের জল

ছবিঃ গঙ্গামতীর চর (Gangamatir Char)

সাগর ছেড়ে ধীরে ধীরে যেন জেগে উঠেছে ভেজা বালির এই সৈকত, এখানকার বালি এতোই নরম যে খালি পায়ে আলতো করে হাঁটলেও পায়ের স্থায়ী ছাপ পড়ে থাকে পরবর্তী জোয়ার না আসা পর্যন্ত। তার উপরে জমে থাকা পানিতে সোনালী আভা তৈরি করে বিকেলের অস্তগামী সূর্যের কিরণ। গোধূলির এই সৌন্দর্যে আপনার মন চাইবে সব ছেড়েছুড়ে দৌড়ে বেড়াতে বাধাহীন এই বালির বুকে। এখান থেকেই একই জায়গার দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের এই অপার্থিব দৃশ্য দেখা যায়। এখানে সাগরের জল একদিনেই দুইবার রক্তিম আভায় নিজেকে রাঙিয়ে তোলে। এক বার ভোরের শান্ত স্নিগ্ধ সূর্যোদয়ের সময় আরেকবার বিদায়ী সূর্যের শেষ ছোঁয়াতে ।

০৬। ঝাউ বন (Zhou Forest)

সৈকতের পূর্ব দিকে রয়েছে মনোরম ঝাউ বাগান। ১৯৯৭/৯৮ অর্থ বৎসরে বন বিভাগ ১৫ হেক্টর জমিতে সি বিচ সংলগ্ন ঝাউ বাগান গড়ে তোলেন।

০৭। লাল কাঁকড়ার চর (Lal Kakrar Char)

কুয়াকাটা থেকে ফাতরার চরের দিকে যেতে হাতের ডান পাশে পড়বে এই দ্বীপ, এখানে ভোর সকালে আসলে লাল কাঁকড়ার মিছিল দেখা যাবে, আবার গঙ্গামতি চরের পূর্ব পাশেও লাল কাঁকড়া অবাধে ঘুরে বেড়ায়। কাঁকড়ার চরে ভোরে বা সকালে গেলে লাল কাঁকড়ার দেখা পাওয়া টা কষ্টকর। সূর্যের তাপে বালু উত্তপ্ত হয়ে গেলে কাঁকড়া রা বাইরে বের হয়ে আসে।

ছবিঃ লাল কাঁকড়ার চর (Lal Kakrar Char)

সামান্য দূরত্বে আছড়ে পড়ছে সমুদ্রের বিশালাকার ঢেউ; এলোচুলের পাগলা হাওয়া; ওপরে সুনীল আকাশ। আর বিস্তীর্ণ বালুকাবেলাজুড়ে ছুটোছুটিতে মত্ত লাল কাঁকড়া। দিনের আলোয় এ লাল কাঁকড়ার আলপনার মুগ্ধতার রেশ শেষ না হতেই, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তে সৈকতের লাল কাঁকড়ার মহড়ার অনিন্দ্য সৌন্দর্য আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে তুলবে।

০৮। ইলিশ পার্ক (Elish Park)

লেকের পানিতে ভাসছে ইলিশ। রোদের আলোতে রূপালী রং করছে চিকচিক। বিশাল আকৃতির ইলিশ দেখে উড়ে আসছে বক। ধেয়ে আসছে সিংহ, বাঘ। এদের পিছনে দৌড়ে আসছে সজারু, কচ্ছপসহ আরো অনেক বন্য প্রানী। কাঠের অবকাঠামোতে স্টিল দিয়ে ইলিশের অবিকল এক প্রতিকৃতিতে গড়া ইলিশ পার্ক হোটেল এন্ড রিসোর্ট। ৭২ ফুট দৈর্ঘের ইলিশটি পানিতে ভাসতে দেখে জীবন্ত মনে হলেও আসলে এটি পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের জন্য বিনোদনে এক নতুন সংযোজন।


ছবিঃ ইলিশ পার্ক (Elish Park)

কুয়াকাটা জিড়ো পয়েন্ট থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরের এই ইলিশ পার্ক দেখতে এখন ছুটে আসছে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা। স্কুল-কলেজেন শিক্ষার্থীসহ শিশু-বৃদ্ধদের কাছে এই পার্কটি যেন স্বর্গোদ্যানে পরিনত হয়েছে। প্রায় এক বিঘা জমির উপর গহীন বন্য প্রকৃতির আদলে তৈরি ইলিশ পার্কের মূল আকর্ষন ৭২ লম্বা বিশাল ইলিশের পেটের মধ্যে তৈরি রেষ্টুরেন্ট। এই রেষ্টুরেন্টে সরবরাহ করা হয় শুধুই সী-ফিস।

০৯। কুয়াকাটা বৌদ্ধ মন্দির (Kuakata Buddhist Temple).

কুয়াকাটার প্রাচীন কুয়ার সামনেই সীমা বৌদ্ধ মন্দির(Kuakata Buddhist Mondir)। কাঠের তৈরি এই মন্দির কয়েক বছর আগে ভেঙে দালান তৈরি করা হয়েছে। তবে মন্দিরের মধ্যে এখনও আছে প্রায় ৩৭ মন ওজনের প্রাচীন অষ্টধাতুর তৈরি বুদ্ধ মূর্তি।

১০। মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধ বিহার (Boddo Bihar):

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পূর্বে দিকে মিশ্রিপাড়ায় রাখাইন পল্লী অবস্থিত। যাতে রয়েছে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মূর্তি; গঙ্গামতির জঙ্গল - কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পূব দিকে গঙ্গামতির খালের পাশে গঙ্গামতি বা গজমতির জঙ্গল। জানা যায় প্রভাবশালী মিশ্রি তালুকদারের নামে এ পল্লীটির নামকরণ করা হয়। এখানকার বৌদ্ধমন্দির যা সীমা বৌদ্ধ বিহার নামে পরিচিত। এখানে দুশো বছরের পুরাতন বৌদ্ধমূর্তি ও ভারত উপমহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে।

ছবিঃ মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধ বিহার (Boddo Bihar)

১১। নয়পাড়া বৌদ্ধ বিহার(Noypara Bouddha Bihar) :

আলীপুর থেকে কুয়াকাটা যাবার দেড় কিলোমিটার দক্ষিনে রাখাইনদের ছোট একটি পল্লী রয়েছে যা নয়াপাড়া নামে পরিচিত। চারটি পরিবারের বাস এ পল্লীতে কিন্তু এখানে সুন্দর একটি বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে। মন্দির দেয়ালে বৌদ্ধদেবের জীবচিত্র আকা আছে।

১২। রাখাইন পল্লী (Rakhain Polli)

কুয়াকাটার সবচেয়ে বড় রাখাইন সম্প্রদায়ের বসতি গোড়া আমখোলাপাড়া রাখাইন পল্লীতে। আলীপুর বন্দর থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে এ রাখাইন পল্লী। এখানে টিন ও কাঠ ব্যবহার করে মাচার উপর মন্দিরে ছোট ছোট অনেকগুলো বৌদ্ধ মূতি রয়েছে।

ছবিঃ রাখাইন পল্লী (Rakhain Polli)

১৩। বার্মিজ মার্কেট (Burmese Market)

কুয়াকাটা ভ্রমণ শেষে আচার নিয়ে বাড়ি আসবে না এরকম লোক খুবই কমই আছে । কুয়াকাটা সী বিচ এর পাশেই গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের বার্মিজ মার্কেট। যেখানে প্রচুর পরিমাণে দেশী বিদেশী আচার এবং চকলেট পাওয়া যায়। যার বেশিরভাগই বার্মার তৈরি বা মিয়ানমারের তৈরি । যা খুবই সুস্বাদু । এখানে যে মার্কেটগুলো গড়ে উঠেছে তা বার্মিজ মার্কেট নামে পরিচিত । মার্কেট গুলোতে বেশিরভাগ বার্মিজ পণ্য পাওয়া যায়। জুতা সেন্ডেল থেকে শুরু করে ছেলে মেয়েদের প্রসাধনী বিভিন্ন ধরনের আচার চকলেট জামাকাপড় ইত্যাদি। এখানে তুলনামূলকভাবে আচারের দাম অন্যান্য স্থানের চাইতে কম হওয়াতে ক্রেতাদের চাহিদা বেশী।

ছবিঃ বার্মিজ মার্কেট (Burmese Market)

১৪।শুটকি পল্লী (Sutki Pally):

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ৭ কিলোমিটার পশ্চিম প্রান্তে আছে শুঁটকি পল্লী। কুয়াকাটায় শুটকির চাহিদা না থাকলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে শুটকির চাহিদা থাকায় কুয়াকাটায় শুটকি শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম পাশে লেম্বুর চরে অস্থায়ীভাবে বাশ দিয়ে শুটকির মাচা তৈরি করা হয়।

এখানে প্রচুর জেলেদের বসবাস। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে চলে মূলত শুঁটকি তৈরির কাজ। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে সৈকতেই শুঁটকি তৈরি করেন জেলেরা। কম দামে ভালো মানের শুঁটকিও কিনতে পাওয়া যায় এখানে। পর্যটকরা তাজা মাছ কেটে শুঁটকি-জাত করার দৃশ্য দেখতে ভিড় জমায়। দেখতে পায় জেলেদের ইলিশ শিকারে সাগরে ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি করা জীবন জীবিকার যুদ্ধ। দেখতে পায় বেড় জালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকারের অনন্য দৃশ্য।

১৫। ঝিনুক বীচ (Jhinuk Beach)

মূল বীচ থেকে একটু দূরে । ইচ্ছেমত ঝিনুক কুড়িয়ে নিতে পারবেন দু’হাত ভরে। ঝিনুক বীচের কাছেই লাল কাঁকড়ার আবাস। কাঁকড়ার পিছনে ছুটতে ছুটতে প্রচন্ড শীতেও ঘাম বের হয়ে যাবে কিন্তু মহারাজাদের টিকিটি ছোঁয়া যায় না।

১৬। লেবুর চর (Lebur Char)

পর্যটকরা লেবু বন বা বাগান মনে করতে পারেন আসলে লেম্বু ছিল রাখাইন সম্প্রদায়ের একটি মেয়ে। তার বাড়ি ও বাগান এখানে ছিল। সমুদ্রে সে বাড়ি হারিয়ে গেছে। এখান থেকে পশ্চিমে ফাতরার বন দেখা যায়। লেম্বু বাগান থেকে সূর্যাস্ত সবথেকে ভাল দেখা যায়। এখানে সামুদ্রিক শামুক ঝিনুকের প্রচুর খোলস পাওয়া যায়। এখানে বেশ কিছু দোকান গড়ে উঠেছে। কাকড়া বা মাছ ফ্রাই করে খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

১৭। তিন নদীর মোহনা (Teen Nodir Mohona) :

ভৌগলিক অবস্থানের কারণে কুয়াকাটা সৈকতের পূর্ব প্রান্তে গঙ্গামতির চরের বাঁক থেকে সূর্যোদয় আর কুয়াকাটার পশ্চিম সৈকতে লেবুর বনের পাশে তিন নদীর মোহনা সূর্যাস্ত দেখার সবচেয়ে ভাল জায়গা।

১৮। সুন্দরবনের পূর্বাংশ - ফাতরার বন (Fatrar Bon):

সমুদ্রসৈকতের পশ্চিম দিকের সংরক্ষিত আন্ধারমানিক নদীর মোহনা পার হয়ে বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেষে এ ম্যানগ্রোভ বন গড়ে উঠেছে।সুন্দরবনের (Sundarbans) প্রায় সকল বৈশিষ্ট রয়েছে এই বনের। তাই একে দ্বিতীয় সুন্দরবন বলা হয়। এ বনের মধ্যে হরিণ, বানর, শুকর, বন মোরগ, শিয়াল, বাঘডাস, মেছোবাঘ, ভোদর, খরগোশ, অজগর দেখতে পাওয়া যায়। বনের দক্ষিন পশ্চিম পাশে সরকারের অর্থায়নে ইকোপার্ক তৈরি হয়েছে।

ছবিঃ সুন্দরবনের পূর্বাংশ - ফাতরার বন (Fatrar Bon)